তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে বীজ ও আঁশ তুলার উৎপাদন বেড়েছে। এ দুই জেলায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছর পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে যথাক্রমে ৬ ও ১২ শতাংশের বেশি। শনিবার সকালে বান্দরবান সদরের বালাঘাটায় পাহাড়ি তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।
হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছর খাগড়াছড়ি জেলায় তুলা উৎপাদন ২ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে গত তিন বছরে তিন পার্বত্য জেলায় গড়ে বীজ ও আঁশ তুলার মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে উপপরিচালক এএইচ মো. কায়কোবাদ। তিনি জানান, গত অর্থবছরে তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি ও সমভূমি মিলে ১৬ হাজার ৬৮৮ হেক্টর জমিতে মোট তুলা উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ২৭৪ টন। এর মধ্যে মোট বীজ ও আঁশ তুলার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৭ হাজার ৬৭৮ ও ১৮ হাজার ৫৯৬ টন।
২০২১-২২ অর্থবছর তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি ও সমভূমি মিলে ১৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ২৪৪ টন বীজ ও ১৭ হাজার ৫৬২ টন আঁশ তুলা উৎপাদন হয়েছিল। এ হিসাবে চলতি অর্থবছর পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি।
প্রবন্ধে আরো জানানো হয়, গত অর্থবছর বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫৬০ কেজি (১৪ মণ)। যদিও কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে একাধিক চাষী বলেন, ‘বছরের পর বছর একই জমিতে তুলা চাষের ফলে দিন দিন উৎপাদন কমে আসছে।’
কর্মশালায় উত্থাপিত প্রবন্ধ অনুযায়ী, খাগড়াছড়িতে ২০২১-২২ অর্থবছর ৪ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমিতে মোট তুলা উৎপাদন হয় ৭ হাজার ৭৬১ টন। গত অর্থবছরে তা কমে ৪ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫২১ টনে।
এদিকে সদর ইউনিয়নের মাংপ্রুপাড়ার এলাকার শৈপ্রুঅং মারমা নামের এক তুলাচাষী বলেন, ‘প্রতি কানিতে তুলা উৎপাদন কমছে। এছাড়া মণপ্রতি দামও কম পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর এক কানি জমিতে তুলা চাষ করছি। তিন সপ্তাহ আগে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ১৫ মণ তুলা দিয়েছি। এখনো টাকা পাইনি।’
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আরো বলা হয়, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও অর্জনের মধ্যে মসলিন তৈরি প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের গবেষণার ফুটি কার্পাসের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও তুলার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। হাইব্রিড ও উফসি জাত ব্যবহারের তুলা উৎপাদন বেড়ে ১ দশমিক ৯৫ লাখ বেল হয়েছে। একটি হাইব্রিড ও ২১টি উন্নত জাত ও ২৯টি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গড়ে বিঘাপ্রতি ফলন পাঁচ-ছয় মণ থেকে ১৫-১৬ মণে উন্নীত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তুলা চাষ উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ” শীর্ষক এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. ফখরে আলম ইবনে তাবিব। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. লুৎফর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার (বোটানি) মংসানু মার্মা। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক এমএস শাহ নেয়াজ।